• ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার ১১ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Sujan SArkar

নিবন্ধ

মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া

ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে বিশাল অশ্বত্থগাছের পাতায় পাতায় শিরশিরানি জাগিয়ে। শতাব্দী প্রাচীন গাছটার আনাচকানাচ থেকে উপচে পড়ছে কত না পাখির কলকাকলি পায়রাদের বকবকম.. ঘুঘুদের কুড়কুড়.. টিয়ার ঝাঁকের তীক্ষ্ণস্বন.. কাক-এর কর্কশ আওয়াজ .. চড়ুই-শালিকদের সমবেত কিচিরমিচির .. টুনটুনি-বুলবুলিদের সুরেলা শিস .. .. নারায়ণপুরের আকাশে ভোর জাগছে মৃদু মোলায়েম আমেজ নিয়ে।মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় দেবীআরাধনার সূত্রপাত। পূজামণ্ডপ ধুয়ে, বেদীতে আল্পনা দিয়ে, ফুল-বেলপাতা গুছিয়ে, প্রসাদের থালা সাজিয়ে, আয়োজন চলছে তারই। আশ্বিনের এই শারদপ্রভাতে পুজোআর্চা সেরে, সন্ধ্যায় দেবীর বোধন দিয়ে শুরু হয়ে যাবে জগজ্জননীর আরাধনা।কাল সন্ধ্যায় এসেছি গ্রামের বাড়িতে। যাবতীয় পেশাগত দায়দায়িত্ব সেরে, বাড়িঘরের দেখাশোনার ভার উপযুক্ত হাতে ন্যস্ত করে, শেষ মুহূর্তের হাজারো ব্যস্ততা সরিয়ে, পিতৃপুরুষের ভিটেয় এসে পৌঁছতে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। বর্ধমান থেকে পঁচিশ কি.মি. উজিয়ে এসে, বাসরাস্তা ছেড়ে বটগাছের ঝুরি-দোলানো গ্রামের পথে গাড়ি ঢুকে পড়েছে হেলেদুলে। ভরাশরতের টইটম্বুর পুকুরের পাশ কাটিয়ে, জোনাক-জ্বলা বাঁশঝাড়ের অন্ধকার আর্চ ফুঁড়ে, এঁকেবেঁকে আধ কি.মি. পেরিয়ে, এসে গেছি নারায়ণপুর এই সাতান্ন বছরের জীবনে পুজোর কদিন যা আমার একমাত্র ঠিকানা।এই পুজোবাড়ি, লোকমুখে যার চলতি নাম চাতোর (চত্বর-এর অপভ্রংশ ), আমাদের ছোটবেলায় ছিল এক লম্বা মাটির চারচালা। সামনে ত্রিপল-এ ছাওয়া লম্বা বাঁশের কাঠামো পুজোর কদিন ধারণ করতো উৎসাহী মানুষজনকে টলমলে কুচোকাঁচা থেকে শুরু করে ন্যুব্জ বৃদ্ধবৃদ্ধারা সকালসন্ধ্যা ঢাকঢোলকাঁসরঘণ্টার ঐকতান .. ধূপধুনোগুগগুল-এর ধূম্রজাল .. মন্ত্রমুখর পূজার্চনার শরিক হতেন এখানেই সমবেত হয়ে। সেই মাটির গাঁথনির জায়গা নিয়েছে শানবাঁধানো পাকা মণ্ডপ, শক্তপোক্ত টিনের ছাউনি, আর মর্মরমণ্ডিত পুজাবেদী সেও হয়ে গেল বেশ কয়েক দশক।ছোটোবেলায় পঞ্চমী-ষষ্ঠীর দিন যখন এসে পড়তাম, বাড়ির কর্মসহায়করা ব্যস্ত থাকতো খড় পেঁচিয়ে দীর্ঘ রজ্জু-রচনায়, যার ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেওয়া হতো ছোটো ছোটো আমশাখা, প্রতিটি শাখায় চারপাঁচটি করে পাতা সেই মালায় সেজে উঠতো মন্ডপের চারপাশ আর প্রতিটি বাড়ির প্রবেশদ্বার। আজ সেই মঙ্গলমালিকারও রূপবদল হয়েছে ছোটো ছোটো আমশাখার জায়গা নিয়েছে একটি একটি করে আমের পাতা। তাতে আর কিছু না হোক, অপচয় কমেছে সবুজপত্রের।আমাদের শৈশবে এই মণ্ডপে ঠাকুর গড়তে আসতেন বটুদা। পরে তাঁর স্থান নেন জয়দেবদা। ওঁর সৃষ্টিতে মায়ের মুখ হতো অপেক্ষাকৃত কোমল, কিছুটা প্রাচীনপন্থী। সেই মুখশ্রীই রয়ে গেছে আজও, এই থীমময় পৃথিবীতে দুর্গাপ্রতিমার ছিরিছাঁদ আর মূর্তিশৈলী নিয়ে যতই পরীক্ষানিরীক্ষা-পরিবর্তনের ঢেউ উঠুক না কেন !জয়দেবদা আজ বৃদ্ধ, চোখে কম দেখেন ; চলনবলনে গ্রাস করেছে স্থবিরত্ব। তবু আজও রথযাত্রা থেকে শুরু করে তিনদফায় এসে, কদিন থেকে, তিনি গড়ে দিয়ে যান আমাদের মা হরগৌরীর মৃৎপ্রতিমা থেমে থেমে .. ঘোলাটে চোখে .. কতক আন্দাজে .. কতক কম্পিত আঙুলের অভ্যস্ততায় ড. সুজন সরকার : বর্ধমান।

অক্টোবর ০৯, ২০২৪
নিবন্ধ

এ’ কোন সকাল - রাতের চেয়েও অন্ধকার!

সেই এলোমেলো দিকহারানো সন্ধ্যা-বায়ের লুটোপুটি খাওয়া ঘর-বার-উঠোন-বাজারে, কাজলকালো রাত পেরিয়ে, আধফোটা কুসুমের মতো ফুটে ওঠা আগমনী আলো আজ আবার ছড়িয়ে দিল মাতৃপূজার সুসমাচার। বেজে উঠলো আলোর বেণু; আজ প্রভাতে সে সুর শুনে খুলে দিলাম হৃদয়ের রুদ্ধ দুয়ার। কিন্তু সবার অন্তরের পুঞ্জীভূত আঁধার কাটলো কি? মাতলো কি ভুবন? যে নিবিড় বেদনা আচ্ছন্ন করে রেখেছে বুকের মাটি, মনের আকাশ কালো করে জমে থাকা সেই মেঘ যেন রাতের চেয়েও অন্ধকার করে রেখেছে শরতের আকাশবীণায় গানের মালা বিলানো আজকের এই মহালয়ার সকালকে।অথচ, বর্ষণক্ষান্ত আশ্বিনের নীল আকাশে সাদা মেঘের বহরে অমলধবলপালে আজ লেগেছে মন্দমধুর হাওয়া; দুধসাদা কাশের গুচ্ছ বেঁধে, ঝরা শেফালীর মালা গেঁথে, নবীন ধানের অঞ্জলি দিয়ে ডালা সাজিয়ে শারদলক্ষ্মী এসে গেছেন শুভ্র মেঘের রথে সমাসীন হয়ে। ধৌতশ্যামল আলোঝলমল বনগিরিপর্বতে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর শ্বেতশতদলশোভিত করুণানয়নের আশীর্বাণী। শিউলীতলার পাশে পাশে.. ঝরা ফুলের রাশে রাশে.. শিশিরভেজা ঘাসে ঘাসে অরুণরাঙা চরণ ফেলে.. জলতরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউ তুলে ছড়িয়ে পড়ছেন তিনি। আলোছায়ার আঁচলখানি লুটিয়ে পড়ছে বনে বনে; ফুলগুলি ঐ মুখে চেয়ে কী কথা গুনগুনোচ্ছে মনে মনে, কে খবর রাখে তার! তবু ঐটুকু ঐ মেঘাবরণ দু হাত দিয়ে সরিয়ে, মুখের ঢাকা হরণ করে, শারদলক্ষ্মীকে বরণ করে নিতে যেন কারো মন নেই আজ। এমন নিরানন্দ দেবীপক্ষের সূচনা খুব বেশী দেখা গেছে কি?একদিকে বানভাসি নদী-মাঠ-ঘর-গেরস্থালির অপার দুর্ভোগ, অন্যদিকে অগ্নিমূল্য হাটবাজার; আর সব ছাপিয়ে এক নির্যাতিতা প্রতিবাদিনীর সর্বপরিব্যপ্ত বেদনার্ত ছায়া এবারের মাতৃপক্ষকে যেন ঢেকে রেখেছে এক তিমিরঅবগুণ্ঠনে। উৎসবে মেতে ওঠার মেজাজটাই পাড়ি দিয়েছে দিকশূণ্যপুরের দিশায়।তবু এরই মধ্যে পথে-পার্কে-পল্লীপ্রান্তে শালবল্লা-বাঁশ-ত্রিপল-প্লাইউডের কাঠামো-রা সেজে উঠছে দ্রুত। দোকান-পসার-মল-মার্কেটে ভীড়ও খানিক খানিক জমে উঠছে। মহালয়ার রাতভোর অসংস্কৃত বাজী-র উদযাপন এবার কিছু কম (আজকাল পাড়ার যে যে বাড়িতে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ আছেন বলে খবর, তাঁদের জানালার কাছাকাছিই সাধারণতঃ বাজী ফাটানো হয় বেশী)। ইতস্ততঃ কিছু ক্লাবের মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-ও সাড়া দিলেন বহু যুগের ওপার থেকে আজ ভোরবেলায়, যদিও কিছু স্তিমিতস্বনে। তবে পিতৃতর্পণাভিলাষীরা ছাড়া নদীর তীরে কাশের বনে মানুষের ঢল নামলো কই!মন ভালো নেই; আমাদের অনেকেরই মন ভালো নেই। আজ অখিলবিমানে দিকে দিকে সর্বস্যার্তিহরা দেবীমায়ের জয়গান। সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষা জগজ্জননী দূর করুন এই দুঃসহ আঁধার। ভয়ের আবহ শেষ হোক সবার ঘরের প্রতিটি দুর্গা হেসে উঠুক সুখে-সাহসে-সাফল্যে প্রতিটি অভয়া বিচার পাক!ওগো আমার আগমনী আলো, জ্বালো প্রদীপ জ্বালো, জ্বালো গো- ড. সুজন সরকার, বর্ধমান। ।

অক্টোবর ০২, ২০২৪
রাজ্য

রাঢ়ভূমি নারায়ণপুরের সরকার বাড়ির দু'শো বছরের পুরনো পুজো, দ্বিভুজা মা দুর্গার কার্তিক গণেশহীন মর্ত্যে আগমন

পুজো শুরু কাল। নারায়ণপুরে দেশের বাড়িতে দুশো বছরের বেশী পুরোনো পুজো আমাদের। এই পঞ্চান্ন বছরের জীবনে একবার ছাড়া কখনও গ্রামের বাইরে পুজো কাটাই নি। এটা আনন্দের চেয়েও বেশী একটা অভ্যাস... পরম্পরা... ঐতিহ্যরক্ষার দায়িত্ববোধ ।পেশাগত সব দায়িত্ব তাই গুটিয়ে ফেলেছি শুক্রবার রাতের মধ্যেই। আজ সকাল থেকেই বেরোনোর তোড়জোড়। মেয়ে কলকাতার বাসা থেকে বর্ধমান এসে পড়লো দুপুরেই। রূপা ওকে নিয়ে গাড়িতে লটবহর তুলে গ্রামের বাড়ি যাবে কাল সকালে। আমার যাওয়া আজই।সবদিক সামলে সুমলে স্কুটারের সামনে সুটকেস ঠেসে নিয়ে রওনা দিলাম, ঘড়িতে তখন বিকেল তিনটে পঁচিশ। বাড়ি থেকে আধ কি.মি. দূরেই জাতীয় সড়ক; আজ বিকেলে কেন কে জানে গাড়ির চাপ একটু কম। তবু গাঁক গাঁক করে ছুটে আসা ট্রাক-ডাম্পার-দূরপাল্লার বাস-পেরাইভেটদের থেকে সদাসন্ত্রস্ত আমি এগোলাম কোনোমতে। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে; যেখানে সেখানে রাস্তার ধারে একমানুষ সমান খোঁড়াখুঁড়ি... কংক্রিটের বাফার... ক্রেন... পে লোডার। কোনোমতে গুড়গুড় করে বিশ মিনিটে সাড়ে সাত কি.মি. পাড়ি দিয়ে নবাবহাট মোড়--- দু নং জাতীয় সড়ক ছেড়ে উত্তরমুখী সিউড়ি রোডে ঢুকে পড়া গেল; যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!মসৃণ পীচঢালা রাস্তা... গাড়ি কম... দুপাশ শ্যামলে শ্যামল, আকাশ নীলিমায় নীল। একশো আট শিবমন্দির-এ ভ্রমণার্থীদের ভিড়। তালিত রেলগেট হাট করে খোলা, অন্তহীন অপেক্ষা থেকে রেহাই পেলাম তাই। বাড়ি থেকে উনিশ কি.মি. আসার পর হলদী-র কাছে খড়ি নদীর সেতু পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম ডানদিকে।বিস্ময়ের ওপর বিস্ময়! এই সদা-আহত রুগ্ন গ্রামীণ পথও এখন বেশ ঝাঁ চকচকে। পুরুষ্টু ধানের শীষে দোল খেয়ে যাচ্ছে বাতাস... তারে দোল খাচ্ছে ফিঙে- বাঁশপাতি-মাছরাঙা... মাঝেমাঝেই ঘুঘুদম্পতিদের উড়ে যাওয়া পথের এপাশ থেকে ওপাশে। এদিকের গ্রামগুলি বেশ সাফসুতরো; কিছু বাড়িতে রঙের পোঁচ পরেছে নতুন, কিছু বাড়ি মলিন ও পারিপাট্যহীণ... সম্ভবত বাসিন্দারা ভাগ্যান্বেষণে চলে গেছেন অন্যত্র। থৈ থৈ করছে পুকুরগুলি... ধারে বকবাবাজীদের একঠেঙে প্রার্থনা... কোথাও খোঁটায় বসে ডানা শুকাচ্ছে পানকৌড়ি...প্রকৃতিতে বেশ একটা শান্ত তৃপ্ত ভাব যেন আজ! শষ্যক্ষেত্রের সোনার গানে সমান তানে যেন যোগ দিয়েছে সবাই, সুর ভাসিয়ে দিয়েছে ভরন্ত পুকুরের অমল জলরাশিতে, প্রকৃতি যেন নিমগ্ন আজ মহাষষ্ঠীর পরম প্রেয় লগ্নের প্রত্যাশায়।মাহিনগর-মোহনপুর-হরিবাটি-কামারপাড়া-ধান্দলসা-বিঘড়ে পেরিয়ে এসে গেল নারায়ণপুর --- বাড়ি থেকে উনত্রিশ কি.মি. পথ পেরিয়ে, ঠিক সত্তর মিনিটের মাথায়। স্কুলমোড় দিয়ে ঢুকে গাঁয়ের মধ্যে কংক্রিট-বাঁধানো এক কি.মি. আঁকাবাঁকা পথ ধরে অবশেষে পৌঁছে গেলাম আমাদের সাবেক ভদ্রাসনে।জ্যেঠতুতো দাদারা ও ছোটকাকা এসে পড়েছে ইতিমধ্যেই। বাবা-মাকে তো পাঠিয়ে দিয়েছিলাম চতুর্থী-র দিনই। সবার সাথে দেখাশোনা কুশলবিনিময় হতে হতেই দিনের আলো নিভে এলো , বেজে উঠলো ঢাকের বাদ্যি।সকাল-সন্ধ্যায় ঠাকুরতলায় ঢাক-ঢোল-কাঁসি-র এই একপ্রস্থ বৃন্দবাদনকে এখানে বলা হয় ধেমুল। কোন শব্দের অপভ্রংশ এটা জানিনা, তবে শুনেছি ভোরবেলা এই বাজনা দিয়ে ঠাকুরের ঘুম ভাঙানো হয়, আর সাঁঝের ঝোঁকে এর উদ্দেশ্য দেবতার বন্দনা। ছোটোবেলায় এই ধেমুল-এর সাথে সন্ধ্যের মুখে প্রবল নাচানাচি করতাম একপাল সমবয়সী ছেলেপিলে মিলে; আর আজ বাজনদারেরা ঢাকের বোল তুললো প্রায় ফাঁকা মণ্ডপে।গ্রাম এখন বলতে গেলে শুনশান, বিশেষত আমাদের পাড়ায় স্থায়ী বাসিন্দা এখন বিরল। প্রায় পঁচিশটি পরিবারের মধ্যে অর্ধেক বাড়িতে কেউই থাকেন না, শহরবাসী হয়েছেন সবাই। বাকি বাড়িগুলিতে প্রৌঢ় দম্পতি বাপ-পিতেমো-র ভিটে আগলাচ্ছেন কোনোমতে, ছেলেমেয়েরা কর্মসূত্রে পাকাপাকিভাবে বাইরে। রাঢ়ভূমির গ্রামের পর গ্রামে এটাই এখন সাধারণ চিত্র। ভাবতে ভয় হয়, এই প্রজন্মের পর বাংলার গ্রামগুলি কি একেবারেই উজাড় হয়ে যাবে--- ছিয়াত্তরের মণ্বন্তর, বর্গীর আক্রমণ, বা ম্যালেরিয়া-ওলাউঠোয় ছাড়খার হয়ে যাওয়া বাংলার মতো?আমাদের এই পুজো ব্যতিক্রমী , কারণ মা এখানে পূজিতা হন মহিষাসুরমর্দিনী নয়, হরগৌরী-রূপে। মায়ের দুইটি হাত, বসে আছেন মহেশ্বরের পাশে, দুপাশে সরস্বতী ও লক্ষ্মীকে নিয়ে। সিংহ-অসুর-কার্তিক-গনেশ কেউ নেই, আছেন বরং নন্দী ও ভৃঙ্গী। নিপাট ঘরোয়া রূপে এই মাতৃপূজা চলছে কত কাল, সঠিক জানা নেই কারো। তবে লিখিত নথি আছে অন্ততঃ দুশো বছর আগে পর্যন্ত।ঠাকুরতলায় ছায়া দিচ্ছে যে বিশাল অশ্বত্থগাছটি, আমার সাতাশি বছর বয়সী বাবাও আজন্ম তাকে দেখে আসছেন ঠিক এমনটিই! একসময় বিকেলে তার ডালে ডালে অগুনতি টিয়াপাখির কলরবে মানুষের কথা শোনা যেত না, আজ সেখানে সম্পূর্ণ নীরবতা। সব টিয়া নাকি ধরে নিয়ে গেছে পাখিচোরেরা; আবার কারো কারো বক্তব্য গাছের কোটরে সাপ থাকে, তারাই নাকি পাখির ডিম খেয়ে খেয়ে বংশলোপ করে দিয়েছে!সন্ধ্যায় দেবীর বোধন। কুলপুরোহিত বুড়োদা ও নুপুরদা স্বল্পালোকিত মন্ডপে বসে নিষ্ঠাভরে ক্রিয়াকর্ম সারলেন। শুরু হয়ে গেল মাতৃবন্দনা। কাল সকাল সাতটায় নবপত্রিকা স্নান করাতে যাওয়া হবে পালকি চড়িয়ে।ডঃ সুজন সরকার,বর্ধমান।

অক্টোবর ০২, ২০২২
নিবন্ধ

New Years Eve: বর্ষশেষ যাপন - পুরানো সেই দিনের কথা

পঁচিশে ডিসেম্বর সেন্ট জোসেফস চার্চের রাত ভরানো ডিং ডং -এর রেশ মেলাতে না মেলাতেই জল্পনাকল্পনার শুরু ; কে হবেন অনুষ্ঠানের সূত্রধার এবার ---শেখর সুমন, নাকি রাকেশ বেদী? মজহর খান, নাকি জয়ন্ত কৃপালনী? রঙ্গতামাশায় দুলিয়ে দেবেন কে --- শফি ইনামদার, সতীশ শাহ, যশপাল ভাট্টি, নাকি টুনটুন? ইন্ডিপপের ধুম মচাবেন কে কে --- আলিশা শেনয়, শ্যারন প্রভাকর, প্রীতি সাগর, পিনাজ মাসানি, পার্বতী খান? নাকি নব্যতারকা বাবা সায়গল, ইলা অরুণ,আনাইদা-- এরা কেউ? স্টার অ্যাট্রাকশন হচ্ছেন কে এবার? আশা ভোঁসলে বা শাহরুখ খানের মতো কেউ?আরও পড়ুনঃ কন্যা রুপেন সংস্থিতাসেই নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় দূরদর্শনের বর্ষশেষ যাপন অনুষ্ঠান যে কী পরিমাণ ঔৎসুক্য আর সাসপেন্স জাগাতো, আজকের প্রজন্মকে তা বোঝানো মুশকিল! বোকাবাক্সের জনপ্রিয় কুশীলবদের, আর বলিউডের একটু প্রান্তবাসী শিল্পীদের নিয়ে এই ধামাকা বর্ষশেষের রাত্তিরে আমোদপ্রত্যাশীদের এনে দিত বিনে পয়সায় দুশো মজা!একানব্বইয়ের একত্রিশে ডিসেম্বর, মেডিক্যাল কলেজের শিশুবিভাগে হাউসস্টাফশিপ চলছে তখন। কেমন অনুষ্ঠান হবে এবার? বছরখানেক আগে দূরদর্শনের মেট্রো চ্যানেল শুরু হওয়ায় বর্ষশেষের রাতে দু দুটো সমান্তরাল অনুষ্ঠান তখন। রীতিমতো সাসপেন্স-- কোন চ্যানেল জমিয়ে দেবে বেশি! চ্যানেল বদলানো নিয়ে ঝাড়পিট না লেগে যায়!আরও পড়ুনঃ পুজো শুরু হয়ে গেলবনফুল হস্টেলে ডাইনিং হলের পাশেই টি.ভি -র ঘর। শদেড়েক আবাসিকের কজনই বা দুটি ন্যাড়া লোহার খাটে বসতে পায়! বাকিরা সব গান্ধী ক্লাস, মানে সামনের মেঝেয় চটের বস্তায় লম্বমান। তাদের মধ্যে তালেবর কেউ কেউ হাতে নয়, লগার মতো বাড়ানো পায়ের আঙুল দিয়েই টি.ভি. চালাতে অভ্যস্ত। রিমোট -টিমোটের গল্পই নেই তখন!সেদিন আমার অ্যাডমিশন ডে। সারা দিন শিশুবিভাগে ভুতের খাটুনি খেটে, ছুটতে ছুটতে বনফুলে ফিরলাম রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। হস্টেলের ঘরে ঘরে তখন বর্ষশেষের রঙ জমজমাট।আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী -- আনন্দমেলা ---হস্টেলের আশেপাশে সেন্ট্রাল এভিন্যু-ইডেন হসপিটাল রোড-কলেজ স্ট্রিট থেকে মাইকের অমায়িক আর্তনাদ তখন পাল্লা দিচ্ছে শব্দবাজির সঙ্গে। হস্টেলের কিছু কিছু ঘরে ততক্ষণে জলবিহার শুরু করেছে রসিকজন (মাত্র সতেরোশ টাকা মাসিক স্টাইপেন্ডের সে যুগে সুধা খাই জয় কালী বলে গাওয়ার ক্ষমতা কম হাউসস্টাফেরই ছিল; ব্যতিক্রম সেইসব মুষ্টিমেয় কয়েকজন, যাদের ঘরে প্রাক্তন কোনো আবাসিক দাদা ভাইবেরাদরি উদযাপন করতে আবির্ভূত হয়েছে এই সন্ধ্যায়, বা যারা মাঝেসাঝে নার্সিং হোমে স্যারকে অ্যাসিস্ট করে দুপয়সা বাড়তি উপায় করে, বা যাদের বাবার ব্যাঙ্কের বদান্যতা বজায় আছে তখনো!ঝটপট নৈশাহার সেরে টি.ভি.র সামনে চিৎপাত হওয়া গেল (সেদিন মাংসের ঝোলে বাড়তি খুদে দুটুকরো কুক্কুট-মাস, সঙ্গে একটি সৌজন্যমূলক রসগোল্লা!) দুরদর্শন এক / দুই মিলিয়ে জমিয়ে দিয়েছে মন্দ নয়। হঠাৎ বাইরে হই চই।আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্যবেরিয়ে দেখি, মেসের চাকর হরিকে জাপটে ধরে সামলানোর চেষ্টা করছে কয়েকজন। বছর একুশের হরি অতিশয় চৌখশ ছোকরা; মেস ম্যানেজার অবন্তীবাবুর বিশ্বস্ত ম্যান ফ্রাইডে সে। তার প্রাইভেট প্র্যাকটিসও আছে --- ধুমপায়ী বাবুদের সুলভে সময় অসময়ে সিগারেট বেচার একচেটিয়া বেওসা করে বেশ দু পয়সা কামাই আছে তার। বলা বাহুল্য, সে ব্যবসায় ধারবাকির কারবার বেশ ভালোই!সেদিন সন্ধ্যে থেকেই বিশেষ বিশেষ কয়েকটি ঘরে দফায় দফায় তরল ও বায়বীয় রসদ সরবরাহে ব্যস্ত ছিল হরি-- সে সব ঘরেই বাবুরা ভালোবেসে তাকে দু চার চুমুক করে সেবার সুযোগ দিয়েছে! ফলতঃ ঘড়ির কাঁটা যখন নতুন বছর ছুঁই ছুঁই, হরির মগজেরও প্রতিটি কোষ টগবগ করে ফুটতে লেগেছে। ভয়ানক উত্তেজিত ও দিগ্বিদিক জ্ঞানশূণ্য হরিকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। কে একজন বললো, হরি, ওই ধনুবাবু আসছে!ধনুদা আমাদের এক ব্যাচ সিনিয়র, গম্ভীর প্রকৃতির দাপুটে আবাসিক। এহেন নামোল্লেখ হরির উত্তপ্ত চিত্তপটে কোনো ছায়াবিস্তার করলো না। হুংকার দিল সে , কে ধনুবাবু? নিয়ে আয়; অনেক টাকা বাকি! সেই রক্তচক্ষু আস্ফালন শুনে চোখ গোল গোল হয়ে গেল ধনুদার, আর বাকিরা বুঝলো -- বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে হরি, এখনই কিছু না করলে এবার জ্ঞান হারাতে পারে!আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুজনাপাঁচেক তাকে অতি কষ্টে চেপে ধরলো মেঝেতে; আর দুজন দুবালতি জল এনে হুড়হুড় করে ঢেলে দিল তার মাথায়! জলাভিষেকের ফলে সেই মাঝ-পৌষের মধ্য রাতে কাক-ভেজা হয়ে হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে নেতিয়ে পড়ল হরি।তাকে জামাকাপড় ছাড়িয়ে সাবধানে শুইয়ে আসা হলো। ততক্ষণে টি.ভি.র পর্দায় কাউন্টডাউন হতে হতে এসে গেছে বিরানব্বই সাল। রঙিন বাজির রোশনাই পর্দা জুড়ে। পরস্পর কোলাকুলি, হাত মেলানো চললো বেশ কিছুক্ষণ ধরে।ওদিকে উনিশ নম্বর ঘরে জমে গেছে আরেক নাটক। আমার ব্যাচের চার বন্ধু সন্ধ্যে থেকেই পানি -গ্রহণে ব্যস্ত ছিল। মোটাসোটা সন্দীপ সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাহ্যজ্ঞানলুপ্ত হয়ে খাটে চিৎপাত হয়ে পড়ে। তার বিশাল ভুঁড়ি ওঠানামা করছিল সশব্দ শ্বাসপ্রশ্বাসের তালে তালে। সেই বিকট শ্বাসলীলা শুনে হঠাৎই বাকি তিন সুরা-সিক্তের মনে হয়, সন্দীপ নির্ঘাৎ অ্যাসপিরেট করেছে (অর্থাৎ তার পাকস্থলীর মালপত্র খাদ্যনালী দিয়ে উঠে এসে শ্বাসনালী মারফত সেঁধিয়ে গেছে ফুসফুসে -- যা অনেক সময়েই দ্রুত প্রাণঘাতী হয় !) সুতরাং তৎক্ষনাৎ সন্দীপের প্রাণ বাঁচাতে বাকিরা খাটে উঠে পড়ে, ও মরীয়া হয়ে সন্দীপের হার্ট ম্যাসাজ করতে শুরু করে। টলটলায়মান হাতে ও বেপথু শরীরে সেই উদ্দাম ম্যাসাজ চলে বেশ কিছুক্ষণ। তারপর ক্লান্তিতেই হোক বা সন্দীপ বিপন্মুক্ত হয়েছে এই বিচারেই হোক, তারা রণে ভঙ্গ দেয়!এই শুভ সন্দেশ টি.ভি. রুমে পৌঁছোতেই সবার আক্কেল গুড়ুম; কারণ হার্ট ম্যাসাজ করতে গিয়ে দুচারটে পাঁজর ভাঙা সে যুগে ছিল খুবই সাধারণ ঘটনা, আর এক্ষেত্রে জীবনদাতারা কেউই ঠিক সজ্ঞানে নেই। এক দৌড়ে উনিশ নম্বরে ঢুকে দেখা গেল, দশাসই চেহারার সন্দীপ স্বামী ঘুটঘুটানন্দের মতো মইপাট হয়ে শুয়ে, তার ভুঁড়ি নাচছে ফররফোঁৎ.. ফররফোঁৎ...পরদিন নতুন বছরের সকালে স্নান-প্রাতরাশ সেরে শিশুবিভাগে যাচ্ছি; ইডেন হাসপাতালের তলার রাস্তায় দেখি ফিটফাট সন্দীপ হাতব্যাগ নিয়ে ওয়ার্ডে ঢুকছে। বাব্বা! ক্যালি আছে তো ছেলের! ভয়ে ভয়ে শুধোলাম, কি রে, ঠিক আছিস তো? জবাব এলো,একদম ফিট গুরু! হ্যাপী নিউ ইয়ার! তারপর ঈষৎ গলা নামিয়ে--- খালি বুকে খুব ব্যথা হয়েছে। কেন বুঝতে পারছি না!লেখকঃ ডঃ সুজন সরকার (বর্ধমান)

ডিসেম্বর ৩১, ২০২১

ট্রেন্ডিং

দেশ

মোদিকে হত্যার ছক? বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রীর রুট থেকে উদ্ধার বিস্ফোরক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেঙ্গালুরু সফর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। যে রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) কনভয় যাওয়ার কথা ছিল, সেই পথের ধারে উদ্ধার হয়েছে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত জেলাটিন স্টিক। ঘটনার পর থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। পুলিশ এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বেঙ্গালুরুর আর্ট অফ লিভিং সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) । সেই সময় কাগ্গালিপুরা এলাকার থাথাগুনির কাছে রাস্তার ধারে কয়েকটি জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়।জানা গিয়েছে, মোদির (PM Modi) সফরের আগে পুলিশের কাছে একটি সন্দেহজনক ফোনকল আসে। ফোনে বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এরপরই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই তল্লাশিতেই রাস্তার ধারে পড়ে থাকা জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়।ঘটনার পরই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রবিবার ভোরে এক ব্যক্তি স্থানীয় থানায় ফোন করে এইচএএল এবং আর্ট অফ লিভিং সেন্টারে বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি (PM Modi) ।পরে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কোরামাঙ্গালায় তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এইচএএল বিমানবন্দরের কাছে কোনও সন্দেহজনক বস্তু না মিললেও আর্ট অফ লিভিং যাওয়ার রাস্তায় জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। কীভাবে ওই বিস্ফোরক সেখানে পৌঁছল, কারা তা সরবরাহ করেছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সন্দেহভাজন যুবকের পাশাপাশি তাঁর বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি অতীতেও বেঙ্গালুরুতে ভিআইপি সফরের সময় একই ধরনের ফোন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন। তখনও তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের রুট থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না পুলিশ।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

সাসপেন্ড হতেই বিস্ফোরক ঋজু! “চাকরি বিক্রি হয়েছে, সবাই জানে”

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দলের নেতা ঋজু দত্ত। চাকরি বিক্রি থেকে শুরু করে কাটমানি, টিকিট বাণিজ্য একের পর এক অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, চাকরি বিক্রি হয়নি, এটা বলার মতো বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। চাকরি বিক্রি হয়েছে, সেটা প্রমাণিত।এখানেই থামেননি ঋজু। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির প্ল্যান পাশ করানো থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজ সব ক্ষেত্রেই টাকা দিতে হয়। এমনকি বাড়িতে কোমড বসানোর ক্ষেত্রেও তৃণমূলের লোকেরা টাকা নেয় বলে দাবি করেন তিনি।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ঋজু বলেন, বাংলার মানুষ এবার মন খুলে কথা বলতে পারছেন। কলকাতার রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছে ভারত জিতেছে, পাকিস্তান হেরেছে। মানুষ নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে।তৃণমূলে থাকার সময় নিজের অবস্থান নিয়েও মুখ খুলেছেন ঋজু দত্ত। তিনি বলেন, আরজি কর আন্দোলনের সময় আমি দলের হয়ে লড়াই করেছি। সন্দেশখালির সময়ও দলকে সমর্থন করেছি। কারণ আমি দলের মুখপাত্র ছিলাম। কিন্তু মন থেকে কোনওদিন সেগুলো মেনে নিতে পারিনি। দল যা বলতে বলত, বাধ্য হয়ে সেটাই বলতে হত।আইপ্যাক নিয়েও তীব্র অভিযোগ করেছেন তিনি। ঋজুর দাবি, দল চালাত আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন। তৃণমূল নয়। টিকিট দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হত। আমার কাছেও ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে বিজেপিও কটাক্ষ করতে শুরু করেছে তৃণমূলকে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার বক্তব্য, এখন ধাক্কা খেয়ে অনেকেরই চেতনা ফিরছে।তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ঋজু দত্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি কোনও আবেদন করেননি। যদিও বিজেপি নেতাদের পাশে পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমার এলাকার বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি পুলিশকে ফোন করে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতারাও আমার পরিবারকে সাহায্য করেছেন।ঋজুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মে ১০, ২০২৬
দেশ

বেঙ্গালুরু থেকেও বাংলার জয়গান মোদীর, “তিন থেকে ২০০, এটাই নতুন ইতিহাস”

বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মুখে বারবার উঠে আসছে বঙ্গজয়ের প্রসঙ্গ। এবার কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সভা করেও বাংলার জয় নিয়ে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে তিনি তুলে ধরলেন গত ১০ বছরে বাংলায় বিজেপির উত্থানের কাহিনি।বেঙ্গালুরুতে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মোদী বলেন, অসমে টানা তিনবার এনডিএ সরকার গঠন করেছে। বাংলায় প্রথমবার বিজেপি এত বড় আশীর্বাদ পেয়েছে। গুজরাটেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে দারুণ ফল করেছে বিজেপি। এই সবই নতুন ইতিহাস তৈরির ঘটনা।এরপর বাংলায় বিজেপির লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দশ বছর আগে বাংলায় আমাদের মাত্র তিনজন বিধায়ক ছিল। তখন সংগঠনও খুব শক্তিশালী ছিল না। আজ সেই বাংলা থেকেই ২০০-র বেশি আসনে জয় পেয়ে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। এটা ইতিহাস রচনার থেকে কম কিছু নয়।২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। এরপর ২০২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।এবারের নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। রাজ্যের একাধিক এলাকায় গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। বিজেপির ভোটের হারও ৪৫ শতাংশের বেশি বলে দাবি দলের।শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে নেমে পড়েছেন তিনি। সোমবার নবান্নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর।বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন করায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। আর সেই আবহেই দেশের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলার জয়কে ইতিহাস বলে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের ফলের পর রক্তাক্ত খুন! এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী হত্যায় আরও এক গ্রেপ্তার

এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী তাপস নস্কর খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে হাসনাবাদ থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের নাম ভোলা কর। রবিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবরবিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন, মঙ্গলবার গভীর রাতে খুন হন তাপস নস্কর। ঘটনার পরই একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসনাবাদের মিঠুন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই ভোলা করকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভোলা করের নাম ছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার পিছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। যদিও পুলিশের দাবি, এই খুনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই।স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাপস নস্কর। সেই সূত্রে এলাকায় প্রোমোটিংয়ের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ কাজের অভিযোগ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় থানায় তাপসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল।নির্বাচনের আগে পুলিশ তাঁকে সতর্ক করেছিল বলেও জানা গিয়েছে। এমনকি ভোটের আগে তাঁকে নজরবন্দিও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান তাপস। ভোট শেষ হওয়ার পর ফের এন্টালিতে ফিরে আসেন তিনি।তারপরই ৫ তারিখ গভীর রাতে এন্টালির চৌধুরী লেনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। স্থানীয় মানুষ পুলিশে খবর দিলে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাপসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে ভোলা করের নামও ছিল।এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ালেও কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, এটি রাজনৈতিক খুন নয়। তাঁর দাবি, নির্মাণ ব্যবসা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছুদিন বাইরে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরেছিলেন তাপস। তারপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

সরকার বদলাতেই বড় পদক্ষেপ! অবশেষে প্রকাশ্যে এসএসসি-র গোপন ওএমআর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই বদলে গেল স্কুল সার্ভিস কমিশনের অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট অবশেষে প্রকাশ করল এসএসসি। সূত্রের খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের দিনেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের ওএমআর প্রকাশ করা হয়েছে।এর আগে ২০২৪ সালেই কলকাতা হাইকোর্ট সমস্ত ওএমআর প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু তারপরেও এতদিন পর্যন্ত সব ওএমআর প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওএমআর মূল্যায়নকারী সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মীর ঠিকানা থেকে একটি হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই হার্ডডিস্ক থেকেই নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পরীক্ষার্থীর ওএমআর পাওয়া যায়। এরপরই তা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সমস্ত ওএমআর প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখলেও এতদিন পর্যন্ত পুরো তথ্য সামনে আনা হয়নি। এবার এসএসসি জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র সমস্ত ওএমআরও প্রকাশ করা হবে।এখন ২০১৬ সালের সমস্ত পরীক্ষার্থী নিজেদের ওএমআর দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার এসএসসি-র তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সিবিআই সূত্রে পাওয়া ওএমআর শিট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরো প্যানেল বাতিল হয়। এরপর থেকেই চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ওএমআর প্রকাশের দাবি উঠছিল। ওএমআর নষ্ট করা এবং কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছিল।এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ওএমআর প্রকাশ হওয়ায় নতুন করে রাজ্যের শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মে ১০, ২০২৬
রাজ্য

“শেষে রাহুলের কাছেই হাতজোড় করতে হবে!” মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, একসময় বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন তিনিই রাজনৈতিক সংকটে পড়ে সকলকে পাশে চাওয়ার চেষ্টা করছেন।অধীর চৌধুরী বলেন, বামেদের সরানোর সময় উনি নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। পরে কিষানজিকে হত্যা করা হয়। এখন দিদি নিজেই বিপদে পড়েছেন। তাই সবাইকে ডাকছেন। তাঁর কটাক্ষ, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছেও হাতজোড় করতে হতে পারে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অধীর। তিনি বলেন, বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা দেখতে চাই। যদি কেউ যান, তাহলে বোঝা যাবে বাংলার মানুষ এখনও তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে মানছেন কি না।এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও আক্রমণ শানান অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, শুনছি খোকাবাবুর বাড়ি এখন দর্শনীয় জায়গা হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হওয়ার সুবাদে কত ক্ষমতা পাওয়া যায় এবং সেই ক্ষমতায় কেমন বাড়ি তৈরি হয়, তা দেখতে মানুষ ভিড় করছেন। এখানেই থামেননি অধীর। তাঁর মন্তব্য, খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজিয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব শীঘ্রই মিউজিয়াম হয়ে যাবে।জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, দিদি আগামী দিনে কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এটা নিশ্চিত, শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর কাছেই তাঁকে যেতে হবে।প্রসঙ্গত, শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের পর বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গঠনের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আসতে হবে। বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মমতা স্পষ্ট বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।যদিও তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় এখনও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বামেরা। আপাতত তারা একাই লড়াই করার অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

টোল প্লাজার ক্যামেরায় ধরা পড়ল খুনিদের গাড়ি! ইউপিআই সূত্রে চাঞ্চল্যকর মোড়

চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে বড় সূত্র পেল পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত গাড়ির ফাস্ট্যাগ পেমেন্ট থেকে একটি ইউপিআই লিঙ্কের খোঁজ মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।তদন্তকারীদের দাবি, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি বালি টোলপ্লাজা হয়ে এলাকায় ঢুকেছিল। টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে টোলের টাকা ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। সেই অনলাইন পেমেন্টের সূত্র ধরেই কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে, তা জানতে পেরেছে পুলিশ।চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। চন্দ্রনাথ ছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলুপ এলাকার ঈশ্বরপুর পাঁচ গ্রাম পঞ্চায়েতে। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন সময় থেকেই তাঁদের পরিচয়। ধীরে ধীরে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন চন্দ্রনাথ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।বুধবার রাতে আচমকাই খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তারপর থেকেই তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল। আততায়ীদের গতিবিধি জানতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা টাওয়ার ডাম্পিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার আগে এবং পরে এলাকার মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কোন কোন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল বা কল রিসিভ করা হয়েছিল, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক নম্বর চিহ্নিত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক মোবাইল টাওয়ারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে বহু ফোন কলের মধ্যে থেকে সন্দেহভাজন নম্বর আলাদা করার কাজ চলছে। তদন্তকারীরা দেখছেন, ঘটনার আগে ও পরে কোন কোন নতুন নম্বর থেকে হঠাৎ ফোন আদানপ্রদান হয়েছে। সেই নম্বরগুলির টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে আততায়ীদের গতিবিধি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

মে ১০, ২০২৬
দেশ

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বড় ঘোষণা থলপতি বিজয়ের! বিনামূল্যে বিদ্যুৎ থেকে নারী সুরক্ষায় একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার থলপতি বিজয়। শপথ নেওয়ার পরই প্রথম ভাষণে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।চেন্নাইয়ে শপথ গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, আমি সাধারণ মানুষ। আপনাদের ভালবাসা আর সমর্থনেই আজ এখানে পৌঁছেছি। সরকারের সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং কাজের দায়ভার আমারই থাকবে। তিনি আরও বলেন, আগের ডিএমকে সরকার বিপুল ঋণের বোঝা রেখে গিয়েছে। তবে মানুষের সমর্থন থাকলে তাঁর সরকার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করার চেষ্টা করবে।এদিন জোট রাজনীতি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন বিজয়। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার কোনও জোটসঙ্গীর চাপের কাছে মাথা নত করবে না। সরকার নিজের নীতি মেনেই চলবে।অনুরাগীদের উদ্দেশেও আবেগঘন বার্তা দেন দক্ষিণী তারকা। তিনি বলেন, আপনারাই আমার জীবন। আপনাদের ভালোর জন্যই আমি কাজ করব। আপনাদের ছাড়া আমি কিছুই নই। তাঁর মুখে শোনা যায় জনপ্রিয় তামিল শব্দবন্ধ এন নেনজিল কুডিয়িরুক্কুম, যার অর্থ, যাঁরা আমার হৃদয়ে থাকেন।মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন বিজয়। তিনি জানান, তামিলনাড়ুর মানুষ মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা নারী সুরক্ষা বাহিনী গঠন করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।এছাড়াও রাজ্যে মাদক রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিজয়ের দাবি, নতুন সরকার স্বচ্ছভাবে কাজ করবে এবং নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করার চেষ্টা করবে।এদিন বিজয়ের সঙ্গে আরও নজন শপথ নেন। সূত্রের খবর, তাঁদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান, আধব অর্জুন, নির্মল কুমার, এন আনন্দ, অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক টিকে প্রভু, প্রাক্তন আইআরএস আধিকারিক অরুণ রাজ, পি ভেঙ্কটারামনন এবং সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক কীর্তনা। বিরুধুনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন কীর্তনা।

মে ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal